রেজিষ্ট্রেশন করুন

লগইন করুন

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

লগইন করুন

রেজিষ্ট্রেশন করুন

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit.Morbi adipiscing gravdio, sit amet suscipit risus ultrices eu.Fusce viverra neque at purus laoreet consequa.Vivamus vulputate posuere nisl quis consequat.

মস্তিষ্কের ‘ফোকাস সুইচ’ – বিজ্ঞানীরা পেলেন মনোযোগ নিয়ন্ত্রক কোষ!

মস্তিষ্কের ‘ফোকাস সুইচ’ – বিজ্ঞানীরা পেলেন মনোযোগ নিয়ন্ত্রক কোষ!

খুব জরুরি কোনো কাজের মাঝখানে হঠাৎ ফোনের টুংটাং শব্দ। আপনি চাইলেন এড়িয়ে যেতে, কিন্তু পারলেন না। নোটিফিকেশন দেখতে গিয়ে কখন যে আধঘণ্টা ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে স্ক্রোল করে ফেলেছেন, তা টেরই পেলেন না!

মনোযোগের অদ্ভুত লড়াই এবং আমাদের মস্তিষ্ক

মনোযোগ ধরে রাখার এই যে দৈনন্দিন লড়াই, তা কেবল আমাদের মানুষের একার সমস্যা নয়। পাখি, সরীসৃপ কিংবা মাছ, প্রাণীজগতের অনেকেই চারপাশের হাজারো বিক্ষিপ্ত ঘটনাকে দূরে সরিয়ে নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতে মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারে।

কোটি কোটি বছর ধরে প্রাণীদের মধ্যে এই অসামান্য ক্ষমতাটি টিকে থাকলেও, মস্তিষ্কের ঠিক কোন অংশটি এই ‘ফোকাসিং’ বা মনোযোগের কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ধোঁয়াশা ছিল। তবে এবার সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে।

মস্তিষ্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা ‘ফোকাস সুইচ’

মস্তিষ্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা 'ফোকাস সুইচ'

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণায় জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে এক অভাবনীয় আবিষ্কার করেছেন।

তারা এমন একগুচ্ছ অতি প্রাচীন নিউরন বা স্নায়ুকোষের সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রাণীদের মনোযোগ বা ‘সিলেক্টিভ স্পেশাল অ্যাটেনশন’ নিয়ন্ত্রণে রীতিমতো একটি সুইচের মতো কাজ করে। বিবর্তনের ধারায় ইঁদুরের সাথে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনে বেশ কিছু মিল রয়েছে। আর তাই, ইঁদুরের মস্তিষ্কে কাজ করা এই মনোযোগ নিয়ন্ত্রক কোষগুলো মানুষের মস্তিষ্কেও একইভাবে কাজ করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কে এই ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা করা নৈতিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায়, বিজ্ঞানীরা সাধারণত ইঁদুরের ওপরই ভরসা রাখেন মানুষের জটিল মস্তিষ্ককে বোঝার জন্য।

সিলেক্টিভ স্পেশাল অ্যাটেনশন: টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি

সিলেক্টিভ স্পেশাল অ্যাটেনশন: টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি

বিজ্ঞানীদের ভাষায়, হাজারো অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে অগ্রাহ্য করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে লক্ষ্য স্থির করার এই ক্ষমতাকে বলা হয় ‘সিলেক্টিভ স্পেশাল অ্যাটেনশন’। যেকোনো প্রাণীর টিকে থাকার জন্য এটি অপরিহার্য।

শিকার করা, নিজের সন্তানকে রক্ষা করা, শত্রুর সাথে লড়াই করা, সব ক্ষেত্রেই এই মনোযোগের প্রয়োজন। এমনকি নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ পড়ার সময় যখন আপনার মস্তিষ্ক ইনস্টাগ্রামে ঢোকার অদম্য ইচ্ছাকে দমন করে, তখনো এই ক্ষমতাটিই কাজ করে!

যখন এই মনোযোগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই মানুষের মধ্যে এডিএইচডি (ADHD) বা সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক অবস্থা দেখা দেয়।

টাচস্ক্রিন এবং ইঁদুর: মনোযোগের অভিনব পরীক্ষা

টাচস্ক্রিন এবং ইঁদুর: মনোযোগের অভিনব পরীক্ষা

গবেষক নিনাদ কোঠারির মতে, যখন এই বিশেষ নিউরনগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়, তখন ইঁদুরগুলো ভয়াবহভাবে অমনোযোগী হয়ে পড়ে।

বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য বিজ্ঞানীরা ইঁদুরগুলোকে একটি টাচস্ক্রিনের সামনে রেখে তাদের মনোযোগের পরীক্ষা নেন। স্ক্রিনে আসা সঠিক ছবিতে নাক দিয়ে স্পর্শ করলে ইঁদুরগুলো পুরস্কার পাচ্ছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় ইঁদুরগুলো সহজেই চারপাশের বিভ্রান্তিকর ছবিগুলোকে এড়িয়ে সঠিক ছবিতে মনোযোগ দিতে পারছিল।

কিন্তু এরপর বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ ভাইরাসের মাধ্যমে ইঁদুরের মস্তিষ্কের ওই নির্দিষ্ট নিউরনগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।

ফলাফল?

ইঁদুরগুলো পুরোপুরি তাদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলে।

পিএলটিআই (PLTi) এবং গাবা (GABA) রাসায়নিকের খেল

পিএলটিআই (PLTi) এবং গাবা (GABA) রাসায়নিকের খেল

মস্তিষ্কের এই বিশেষ নিউরনগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যারাবিজেমিনো ল্যাটারাল টেগমেন্টাল ইনহিবিটরি কমপ্লেক্স’ বা সংক্ষেপে পিএলটিআই (PLTi)। এই নিউরনগুলো মূলত গাবা (GABA) নামক এক ধরনের রাসায়নিক বার্তাবাহক ব্যবহার করে কাজ করে।

মজার ব্যাপার হলো, এডিএইচডি (ADHD) আক্রান্ত মানুষদের মস্তিষ্কেও এই গাবা রাসায়নিকের অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। এই কোষগুলো মস্তিষ্কের ‘সুপিরিয়র কলিকুলাস’ নামক অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে, যা মূলত আমাদের চারপাশের পৃথিবীর একটি মানসিক মানচিত্র তৈরি করতে এবং সেখানে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেম অঞ্চলে অবস্থিত এই কোষগুলোর অস্তিত্ব পাখি, মাছ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী—সবার মধ্যেই সংরক্ষিত রয়েছে।

এডিএইচডি (ADHD) এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য

এডিএইচডি (ADHD) এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য

জন্স হপকিন্সের নিউরোসায়েন্টিস্ট শ্রীশ মহীশূর বলেন,

“এডিএইচডি-এর একটি প্রধান লক্ষণ হলো, খুব সামান্য কোনো বিক্ষিপ্ত ঘটনাও সহজেই মনোযোগ নষ্ট করে দেয়। আমাদের গবেষণায় ইঁদুরগুলোর নিউরন যখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল।”

তবে আশার কথা হলো, ঠিক তার পরের দিন যখন নিউরনগুলো আবার চালু করা হয়, তখন ইঁদুরগুলো পুনরায় যেকোনো শক্তিশালী বিভ্রান্তি এড়িয়ে আগের মতোই মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পেরেছিল।

মহীশূর আরও জানান, মস্তিষ্কের এই অংশটি মূলত একটি ‘অ্যাটেনশনাল সিলেকশন ইঞ্জিন’ বা মনোযোগ বাছাই করার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। এটি মস্তিষ্ককে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যে এই মুহূর্তে ঠিক কোন তথ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত।

মনোযোগের বিবর্তন এবং আপনার ব্রেনের সাফল্য

মনোযোগের বিবর্তন এবং আপনার ব্রেনের সাফল্য

এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের এই জটিল কাজটি হয়তো প্রাইমেট বা মানুষদের মস্তিষ্কের অপেক্ষাকৃত আধুনিক কোনো অংশের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু নতুন এই গবেষণা প্রমাণ করছে যে, মস্তিষ্কের অতি প্রাচীন একটি অংশই মূলত এই গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে।

শ্রীশ মহীশূরের মতে, এখন পর্যন্ত পাওয়া সব প্রমাণই ইঙ্গিত দেয় যে মানুষের মস্তিষ্কেও ঠিক একই রকম নিউরন রয়েছে। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে এটি হুবহু একইভাবে কাজ করে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। তবে এই আবিষ্কার আমাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা এবং ঘাটতিগুলোর পেছনের বিজ্ঞান বুঝতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

আর আপনি যদি স্মার্টফোনে ডুব না দিয়ে বা ডুমস্ক্রোলিং না করে একনাগাড়ে এই পুরো লেখাটি পড়ে শেষ করে থাকেন, তবে অভিনন্দন! এই দারুণ ফোকাসের জন্য আপনি আপনার মস্তিষ্কের সেই প্রাচীন ‘পিএলটিআই’ (PLTi) কোষগুলোকেই একটি ধন্যবাদ দিতে পারেন!

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে আমাকে ফেসবুকে অনুসরণ করতে পারেন। এছাড়াও আমি টুইটারে এবং ইন্সটাগ্রামে সক্রিয় আছি।

নাম: Administrator

আমার নাম মেহেদী হাসান। আমি একজন শিক্ষার্থী। নিজে শিখতে এবং অপরকে শেখাতে ভালোবাসি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করার মাধ্যমে, আপনি আমার পরিষেবার শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে চলবেন।